স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার সহকর্মী ও ব্যাচম্যাট, ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আফসারের সঙ্গে নিজের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।
ফরিদা খানম জানান, মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গান লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন আফসার। সেখানে কাজের পাশাপাশি তারা দীর্ঘ সময় গল্প করেন এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। এ সময় আফসার তার পদোন্নতি না পাওয়ার কষ্টের কথাও ভাগ করে নেন। ফরিদা তাকে পরবর্তী পর্যালোচনায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
পোস্টে ফরিদা খানম লেখেন, সেদিন বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। আফসারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবারের সময়ও আফসার নিজের বিষয়ে না বলে অন্যদের নিয়ে কথা বলছিলেন এবং কয়েকজন সহকর্মীর প্রতি খেয়াল রাখার জন্য ফরিদাকে অনুরোধ করছিলেন।
আফসারের সরলতা ও বিনয়ের কথাও স্মরণ করেছেন ফরিদা। তিনি জানান, কার্যালয়ে কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এলে তিনি দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেন। ফরিদা তাকে ব্যাচম্যাট হওয়ায় এতবার দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে আফসার হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘এটা চেয়ারের সম্মান।’
বিকেল ৪টার দিকে আফসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলে যান। তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন ফরিদা। যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ছোট উপহারও দেওয়া হয়। দুটি চায়ের কাপের সেই উপহার নিয়ে আফসার জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেটি পছন্দ করেছেন।
এরপর সন্ধ্যায় আফসার ফরিদাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উপহারটি তার স্ত্রী ও সন্তানদের পছন্দ হওয়ার কথা জানিয়ে ফরিদার প্রতি আস্থার কথাও বলেছিলেন।
আফসারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ফরিদা খানম। নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, এতটা তাজা স্মৃতির মধ্যেই প্রিয় মানুষটির চলে যাওয়া যেন সৃষ্টিকর্তার এক অভাবনীয় রহস্য।
আফসারকে উদ্দেশ করে ফরিদা খানম আরও লেখেন, ‘এই কি আপনার চলে যাওয়ার বয়স, প্রিয় ভাইটা আমার!’ তিনি প্রয়াত আফসারের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।